Posts

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের এত আধিপত্য কেন?

Image
  আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের এত আধিপত্য কেন?  ধরুন মেজবা সাহেব বিদেশে বেড়াতে যাবেন,তিনি এখন যে দেশে যাবেন সেই দেশের একটি হোটেলে রুম বুকিং দিবেন । বুকিং দেওয়ার সময় অবশ্য তাকে হোটেল ভাড়া ডলারে পরিশোধ করতে হবে। কারন ডলারে মূল্য পরিশোধ করা সহজ এবং আর্ন্তজাতিকভাবে গ্রহনযোগ্য। একইভাবে এক দেশ হতে অন্য দেশে পণ্য আমদানী এবং রপ্তানীর ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। বর্তমান বিশ্বের যাবতীয় বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ লেন-দেন হয় মার্কিন ডলারের মাধ্যমে। পৃথিবীর আদিকাল হতে ব্যবসায়ের যাবতীয় লেনদেন হতো স্বর্ণমুদ্রা মাধ্যমে। ১৮৮০ সাল থেকে ১৯১৪ সাল হলো গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের স্বর্ণযুগ। এ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো তাদের মুদ্রার মান নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ হিসেবে প্রকাশ করে। স্বর্ণমান ব্যবস্থাটি হলো অনেকটা এমন-এখনকার টাকায় লেখা থাকে, চাহিবামাত্র এর বাহককে অত পরিমান টাকা দিতে বাধ্য থাকিবে। মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভিত্তি হলো স্বর্ণমান। যে সব দেশ গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল তারা তাদের দেশীয় মুদ্রার মূল্য কী পরিমাণ স্বর্ণের সমান হবে তা আইন করে বেধে দিয়ে...

৫ দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ …

Image
  ৫ দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ … লেখকঃ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বিভিন্ন ফোরামে গত ৫০ বছরের বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি/উন্নয়নের সুফল কতটুকু দেশের মানুষ ভোগ করতে পারছে অদূর ভব্যিষতে সুফল কতটুকু মানুষ ভোগ করতে পারবে এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। উন্নয়ন যতটুকু হয়েছে, তা কি কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্জন করা সম্ভব হয়েছে? কিংবা মাইলফলকের কোথায় স্পর্শ করতে পারতাম আমরা। যদি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পোঁছাতে না পারি তবে ব্যর্থতা গুলো কি কি? সাধারনতঃ প্রত্যেকটা সচেতন নাগরিকের তার চিন্তার জগতে সদা এই প্রশ্ন গুলো ঘুরে বেড়ায়। মানুষ আমাদের সমসাময়িক স্বাধীন দেশগুলির সাথে বাংলাদেশের অগ্রগতির তুলনা করতে চায়। আসলে বাংলাদেশের উন্নয়নকে আমরা কার সঙ্গে তুলনা করা উচিত?। আমরা কি শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করবো, না তুলনার পরিধি আরেকটু বিস্তৃত করতে পারি। আজকের লেখায় তুলনার জায়গাটা একটু বিস্তৃত করার চেষ্টা করবো। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন বাংলাদেশ টিকে থাকবে কিনা-তা নিয়েই সন্দে...

বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটিজি চক্রে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংকট এবং চ্যালেঞ্জ!

Image
  বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটিজি চক্রে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংকট এবং চ্যালেঞ্জ! আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া একবিংশ শতাব্দীতে, ক্রমবর্ধমান বিশ্ব অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং চীনের উত্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে বিধায়, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে একটি (ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয়) জোট গঠনের তাগিদ অনুভব করে মার্কিন মুল্লুক। ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজৗনতিক প্রভাব প্রসারিত এবং সুসংহত করার ধ্যান ধারনা হতে যুক্তরাষ্ট ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর নিয়ে গঠিত ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চল গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ওবামা সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে আলাদাভাবে অভিনিবিষ্ট হতে শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ঘোষণা আসে ‘Rebalancing to Asia’ নামে একটি প্রকল্প। ওবামা সরকারের পরবর্তী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কিছু সংস্কার করে প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি। মাঝে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে কোয়াড, আনজুস, অকাস নামীয় বেশ কয়েকটি সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির ঘোষিত প্রধান লক...

বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা,আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং বাংলাদেশের আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতাঃ

Image
  লেখকঃ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমান সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইউরোপের স্মরণাতীত কালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে সংকটে ফেলে দিয়েছে এই সংকট একদিকে দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, অন্যদিকে সংকট থেকে উত্তরণের নতুন নতুন পথের সন্ধান করে দিচ্ছে। মহামারীর সময় থেকে বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যন্ত, বিশ্ব ক্রমাগত বিভিন্ন ভাবে খাদ্য,জ্বালানী, বাণিজ্য,নিরাপত্তা ইত্যাদির মতো বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্ব যখন করনা মহামারির প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রুশ-ইউক্রেনীয় সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উন্নত, অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল সকল দেশ নানা ভাবে এই যুদ্ধের প্রভাবে সাঙ্ঘাতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন । সমস্যা গুলোকে মোকবেলায় রাষ্ট সমূহকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাবনা,পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। অনেক দেশের সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন গৃহিত পদক্ষেপ সমূহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষ দ্বারা প্রতিরোধ/প্রতিবাদেরও সম্মুখীন হচ্ছে। এই প্রতিরোধ শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, প্রভাবশালী দেশের বিভিন্ন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সমস্য...

কতিপয় দেশের অর্থনীতির ধস এবং পুনরুত্থানের ইতিবৃত্তঃ

Image
  কতিপয় দেশের অর্থনীতির ধস এবং পুনরুত্থানের ইতিবৃত্তঃ ব্যক্তির জীবনে যেমন উত্থান পতন রয়েছে, তেমনি একটি রাষ্টের জন্মলগ্ন থেকে পরবর্তীতে অর্থনৈতিকভাবে অনেক চড়াই-ঊতরাই পেরিয়ে আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে। অর্থনীতির গতিপথ সম্পর্কে বিভ্রম থাকা, অপ্রয়োজনীয় উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব একটি দেশের অর্থনীতির ধসের নিয়ামক। গত এক দশকে জিম্বাবুয়ে, গ্রীস এবং শ্রীলংকার অর্থনৈতিক ধস বিশ্বের তাবত পরিকল্পনাবিদদের চিন্তার দুনিয়ায় মারাক্তভাবে প্রভাব ফেলেছে। ধরুন আপনি কোন দেশে বেড়াতে গেলেন সাথে করে নিজের ব্যবহারে লাগেজ এর সাথে এক্সট্রা কয়েকটা বস্তা নিয়ে যাবেন ঐদেশের মুদ্রা বহনের জন্য। কেনইবা নিবেন না, যদি আপনাকে এক বোতল পানি ক্রয় করতে ১ মিলিয়ন ডলার খরচা করতে হয়! হ্যাঁ জিম্বাবুয়ের কথাই বলছি। ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার আগে দেশটির নাম ছিল সাউদার্ন রোডেশিয়া। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতার পর রোডেশিয়ান ডলার বিলুপ্ত হয় এবং স্বাধীনদেশটি “জিম্বাবুয়েন ডলার” চালু করে। জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি তখন অনেক ভালো ছিল। তাদের অর্থ...