দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রভাবঃ

 

বাজেট ভাবনা


দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রভাবঃ

লেখকঃ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

ইতিবাচক প্রভাবঃ

গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। জাতীয় সংসদে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটকে জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট হিসেবে অবহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট ব্যাপ্তি রাখা হয়েছে ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বর্তমান চলমান মহামারী সময়ে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। এই আলোচনায় বাজেটের ব্যাপ্তি নিয়ে আলোকপাত করবো না । বাজেটে যে বিষয় গুলো ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এই আলোচনায় ঐ সকল প্রস্তাবনা নিয়ে আলোকপাত করব। নিন্মোক্ত প্রস্তাবনা গুলো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কর্পোরেট খাতে নিন্মোক্তভাবে কর হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছেঃ

সাধারনভাবে ৩২.৫ শতাংশ থেকে ২.৫% হ্রাস করে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানীর ক্ষেত্রে ২৫% হতে ২.৫% হ্রাস করে ২২.৫ শতাংশ করা হয়েছে।

একক ব্যক্তি কোম্পানীর করহার ৩২.৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরএমজি সেক্টর ১০ % এবং আরএমজি সেক্টর (সবুজ) ৩% এর পরিবর্তে ২% করার  প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট নিয়ে পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) বক্তব্য, “প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়মুখী বাজেট। কর কমানোয় স্বনামধন্য কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে এখন আগ্রহী হবে।” সরকার পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিককরণের লক্ষ্যে নানাবিধ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আধুনিক পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্ট্রমেন্ট যথা: ট্রেজারি বন্ড, সুকুক, ডেরিভেটিভ, অপশন এর লেনদেন চালু করা, এসএমই ও এটিবি বোর্ড চালু করা, ইটিএফ চালু করা, ওপেন ইন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত করা, পুঁজিবাজারের সহায়ক ইকোসিস্টেম ও সার্বিক সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন এবং স্টক এক্সচেঞ্জকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সুদৃঢ  প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইকোনমিক জোনে অর্থ বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টিঃ

বিগত অর্থ বৎসরের বাজেটে এই সুযোগ প্রদান করা হয়েছে যা এখনো অব্যাহত থাকবে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন ।

এতে আইটি র্পাক/অর্থনৈতিক অঞ্চলে অধিক পরিমান বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বিতর্ক মতভেদ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও স্টেক হোল্ডাররা মনে করছেন এতে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। নতুন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তবে অর্থমন্ত্রী প্রত্যাশা অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগের পথ সৃষ্টি করবে। বিদেশে বিনিয়োগ বা পাচারের বদলে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিকরা নিজ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন।

পোষাকখাতে বর্তমান প্রদত্ত তিনটি সুবিধা ( যেমনঃ নগদ প্রণোদনা,কর অব্যাহতি, (উৎসে কর) অব্যাহত

রাখার প্রস্তাব করা হয়েছেঃ

আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) বাজেটে রপ্তানি খাতে সব ধরনের কর অপরিবর্তিত থাকছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি অর্থবছরের মতো করপোরেট কর, রপ্তানি আয়ে উৎসে কর ও নগদ প্রণোদনায় উৎসে কর দিতে হবে। এছাড়া বাজেটে ইসলামি বন্ড ‘সুকুক সম্পর্কে জনসাধারণকে আকৃষ্ট করতে এর মুনাফায় কর অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে করপোরেট কর ১২ শতাংশ। তবে গ্রিন (সবুজ) কারখানা হলে করহার ১০ শতাংশ। এ হার আগামী ৫ বছরের জন্য বলবৎ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল রপ্তানিমুখী সংগঠনগুলো। এছাড়া রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দশমিক ৫০ শতাংশ উৎসে কর কর্তন হয়। এটি কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। এছাড়া নগদ প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। এটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল।

 

 

আমদানী পর্যায়ে উৎস করহার যৌত্তিককরণঃ

 নতুন বাজেটে ভ্যাট আইন আরও ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করতে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর (এআইটি) হার কমানো হচ্ছে। ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রিফান্ড জটিলতার কারণে কয়েকটি শিল্পকে আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এ তালিকায় আছে স্ক্র্যাপ ভেসেল, ইস্পাত শিল্পের ওয়াস্টেজ ও স্ক্র্যাপ, ফেরো অ্যালয়, স্পঞ্জ আয়রন, পিভিসি ও পেট রেজিন উৎপাদনে ব্যবহৃত ইথাইলিন গ্লাইকল, টেরেফথালিক অ্যাসিড, ইথাইলিন/প্রোপাইলিন আমদানি। এছাড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানিকৃত কাজু বাদামেও আগাম কর প্রত্যাহার হচ্ছে।

 “নতুন পণ্য নতুন বাজার”

এই প্রস্তাবনায় দেশীয় কোনো কোম্পানী আর্ন্তজাতিক বাজারে রপ্তানীর নতুন বাজার (ক্ষেত্র) সৃষ্টি করতে পারলে নগদ ৪% প্রণোদনা সুবিধা পাবে। ইপিজেডস্থ সি’ টাইপ যে কোনো কোম্পানীর জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর অনেক আগে থেকে নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। নতুন পণ্য রপ্তানিতে ৩৬টি খাতে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা সুবিধা রয়েছে। নতুন করে আরও ৯টি পণ্যে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া নতুন পণ্য এবং বাজার সম্প্রসারণে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে নতুন বাজারে নতুন পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

মেগা শিল্প উৎপাদনে“মেইড ইন বাংলাদেশ” কে প্রণোদনাঃ

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে বাজেটে। এ জন্য বাজেটে দেশীয় উৎপাদনে কর অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেছেন, দেশে মেগা শিল্পের বিকাশ এবং আমদানি বিকল্প শিল্পোৎপাদনকে ত্বরান্বিত করার স্বার্থে ‘মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে অটোমোবাইল থ্রি-হুইলার ও ফোর-হুইলার উৎপাদনকারী কোম্পানিকে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতি এবং আরও কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরও ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করছি। মেগা শিল্প উৎপাদনে ‘মেড ইন বাংলাদেশ উদ্যোগকে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। মেগা শিল্পে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অন্যূন ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে স্থাপিত অটোমোবাইল (থ্রি-হুইলার ও ফোর-হুইলার) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছর কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনেও দেশীয় উৎপাদনে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, ওয়াশিং মেশিন, ব্লেন্ডার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন, ইন্ডাকশন কুকার, কিচেনহুড ও কিচেন নাইভস এসব হোম ও কিচেন অ্যাপ্ল্যায়েন্স উৎপাদনে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিপণ্যের শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে এমন প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানে প্রণোদনাঃ

কৃষকদের সর্বাত্মক চেষ্টায় করোনার মহামারি সাথে সংগ্রাম করে অর্থনীতিকে স্বস্তি দিয়েছে দেশের কৃষি খাত। কৃষি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন বাজেটে থাকছে কর ছাড়ের প্রস্তাবনা রাখা হয়েচছে। কৃষি আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ তালিকায় আছে থ্রেসার মেশিন, পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন হারভেস্টার, রোটারি টিলার, উইডার (নিড়ানি) ও উইনোয়ার (ঝাড়াইকল)। কৃষিপণ্যে শিল্পায়ন,যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও ব্যবসায়ীদের ভ্যাট ও ১০ বছর কর অব্যাহতি দেওয়া প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

অটোমোবাইল উৎপাদন শিল্পে কর হার হ্রাস করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছেঃ

মোটর কার ও মোটর বেহিক্যালের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যহতি সুবিধা আরো ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এত দেশে অটোমোবাইল শিল্প প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। তবে বাংলাদেশে অটোমোবাইলশিল্পে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি না হওয়ার পেছনে পাঁচটি বাধা চিহ্নিত করেছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, অটোমোবাইলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কাঁচামালের জোগান নেই। দীর্ঘ মেয়াদে নীতিমালার অভাব, সহায়ক শুল্ককাঠামোর সীমাবদ্ধতা। এ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ, পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প খাতের (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) অনুপস্থিতিকে দায়ী করেছেন উদ্যোক্তারা।

 

 

আইটি হার্ডওয়ার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০(দশ) বছর কর অব্যাহতি অব্যাহত থাকবেঃ

আইটি খাতে বাংলাদেশে আমদানী নির্ভরতা কাটিয়ে স্বয়ং সম্পন্ন হওয়ার জন্য এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রণোদনা হিসেবে মাদারবোর্ড, ক্যাসিং, ইউপিএস, স্পীকার, সাউন্ড সিষ্টেম, পাওয়ার সাপ্লাই, ইউএসবি ক্যাবল, সিসিটিভি এবং পেনড্রাইভ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দশ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 রপ্তানীমুখী শিল্পকে সুরক্ষিতকরণে পদক্ষেপঃ

 Photosensitive Rotary Screen, Temperature and Loaded PCB Board কে রেয়াতি সুবিধায় অর্ন্তভূক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও, অর্থনৈতিকভাবে এটি সাধারণত পাদুকা শিল্পের সাথে গোষ্ঠীভূত হয়, প্রযুক্তিগতভাবে এটি মূলত স্পিনিং, টুফটিং (গালিচা গিঁট), বয়ন, ফ্যাবিক্স ডাইং, টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদন মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়াতে অর্ন্তভূক্ত। তাই রপ্তানী বহুমূখীকরণে সম্ভবনাময় পাদুকা শিল্পের প্রসারে উক্ত শিল্প দুটি আমদানীতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে ।

আমদানী পর্যায়ে উৎসে করহার যৌত্তিককরণঃ

আমদানী পণ্যের উপর অগ্রীম কর ৪ শতাংশ হতে কমিয়ে ৩শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইপিজেডে শুল্ক সুবিধার আওতা বহির্ভূত পণ্য আমদানীর ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে (যেমনঃ ফায়ার ইকুইপমেন্ট যন্ত্রাদি) । ফলে ব্যবসায়ে সাময়িকভাবে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে । ঘোষিত বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনঃরুদ্ধারে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে অভিহিত করে এর বাস্তবায়ন, ঘাটতি মোটানো এবং রাজস্ব আদায় ও সম্প্রসারণে আরও বেশি নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ডিসিসিআই । ২০২১-২০২২ অর্থ বৎসরের বাজেটে কোভিড নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বৃদ্ধিকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা । বিশেষত আয়কর ও ভ্যাট হার হ্রাস, গ্রস রিসিট, গবেষণা এবং আমদানি কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর হ্রাস করা, স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করায় আহব্বান জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। তাছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো সময়োপযোগী। তবে, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঘোষিত সরকারি সহায়তা সহজতর উপায়ে ব্যবসায়ীদের দেওয়া গেলে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘোষিত বাজেট সহায়ক হবে । এছাড়াও বাজেটে ঘোষিত সুবিধাদি দেশীয় শিল্প বিকাশে বিনিয়োগকারীদের আরো বেশী বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করবে। উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বিষয়াদি সংসদে বাজেট বিল হিসেবে পাশ হওয়া পর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এসআরও/সার্কুলার জারির উপর নির্ভর করবে।

         

ঘোষিত বাজেটের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব

অবচয়ের হার কমানোর প্রস্তাবঃ

 

বিদ্যমান হার

প্রস্তাবিত হার

সাধারন ভবন

১০%

৫%

ফ্যাক্টরী ভবন

২০%

১০%

 

অবচয়ের হার কমানোর ফলে বাৎষরিক অবচয় মূল্য কমে যাওয়ায় করযোগ্য আয় বৃদ্ধি পাবে।

 সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে করহার হ্রাসঃ

          ক্রম

বিদ্যমান বিধান

প্রস্তাবিত বিধান

ভিত্তি অংক

হার

 

 

১৫ লক্ষের অধিক না হলে

২%

৫০ লক্ষের অধিক না হলে

৩%

১৫ লক্ষের অধিক কিন্ত ৫০ লক্ষের অধিক না হলে

৩%

৫০ লক্ষের অধিক কিন্ত ২ কোটির অধিক না হলে

৫%

৫০ লক্ষের অধিক কিন্ত ১ কোটির অধিক না হলে

৪%

২ কোটির অধিক হলে

৭%

১ কোটির অধিক হলে

৫%

 

 

▫যদিও ২০১৯-২০২০ অর্থ বৎসরেও সর্বোচ্চ হার ৭% ছিল।

 

অবচয় হার হ্রাস এবং সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর হার বুদ্ধির কারনে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সমূহের উপর বাড়তি চাপ পড়বে, করযোগ আয় বেড়ে যাবে।

সর্বপোরি বাজেট দেশে বিনয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি দেশী শিল্প বিকাশে সহায়ক ভুমিকা রাখবে । দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঘোষিত বাজেট সক্ষম হবে আশা করা যায়। রপ্তানী বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আরো বাড়াতে সরকারী সংস্থা গুলোকে বাজেট ঘোষনা অনুয়ায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমূহ যেমনঃ বেপজা এবং বেজার ক্ষেত্রে বাজেট ঘোষনায় বিষয়াদিতে ইকোনোমিক জোনে এবং ইপিজেডে সুবিধা পেতে হলে কর্তৃকপক্ষ সমূহে কে  এনবিআর এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর সহিত যোগাযোগ স্থাপন করে , সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইপিজেডস্থ/জোন শিল্প প্রতিস্ঠানের জন্য আলাদা এসআরও/সার্কুলার জারির ব্যবস্থা নিতে হবে । দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি তরুণ। প্রতিবছর ২০ লক্ষাধিক মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, এদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবসা বাণিজ্য যেমন বাড়াতে দরকার, তেমনি শিল্পায়নের গতিও বাড়ানোও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে গতি আনতে হলে বাড়াতে হবে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগ। সে লক্ষ্যে বাজেটে মেগা প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, করপোরেট করে দেওয়া হয়েছে বড় ছাড়, বাড়ানো হয়েছে ভ্যাট অব্যাহতির সময়সীমা। অবকাঠামো খাতেও অনেক বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ক হার কমানো হয়েছে। এতে শিল্প পণ্য উৎপাদনের খরচ কমবে মর্মে। আশা করা যায় ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে-এমটাই আশাবাদ ব্যক্ত  হয়েছে ঘোষিত  বাজেটে।

লেখকঃ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

বি.কম (সম্মান),এম.কম (হিসাব বিজ্ঞান), মার্ষ্টাস অব ইন্টার ন্যাশনাল বিজনেস (ঢাঃবি),এম.বি.এ (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট), উচ্চতর কোর্সঃ আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য (ফেডারেশন ইউনিভার্সিটি অব অষ্টেলিয়া)।



Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে নতুন মোড়: ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের প্রভাব বিশ্লেষণ ।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: ঐতিহ্যের শিকড়ে আধুনিক উত্তরণ ।

ব্রিকস সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশের অবস্থান: আমার একটি বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি