বিশ্ব বাণিজ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটঃ ০১
বিশ্ব বাণিজ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটঃ ০১ 10.10.2019
ctgjournal.com
বিশ্ব বাণিজ্যে বর্তমান চালচিত্র
বিশ্লেষনে দেখা যায় কাগজে কলমে বহুমাত্রিক বাণিজ্যের আলোচনা চললেও বাস্তবে কিন্ত তা
নয়।বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রতিবেদনে একতরফা বাণিজ্যিক বৈষম্য অত্যান্ত প্রকঢ়। আঞ্চলিক
প্রেক্ষাপটে ও দেখা যায় অনেক বড় ঘাটতি এবং মোড়লিয় প্রতিবন্ধকতা। কোন রাষ্ট একক ভাবে
নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে বর্হিবিশ্বের সাথে বাণিজ্য প্রবাহ চলমান রাখতে পারছেনা।কারণ বড়
ভাইদের একতরফা চাপিয়ে দেওয়া পরামর্শ এড়িয়ে যেতে পারে না বাণিজ্যে দূর্বল শক্তি গুলো।বাণিজ্যে
প্রয়োজন এবং রাষ্টের কল্যাণে অত্যান্ত কম প্রতিবন্ধকতা মধ্যে দিয়ে সকল রাষ্ট কে সকলের
সহিত বাণিজ্য করতে দেওয়া বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি প্রতাশা করে। হিসাবে বিশ্লেষকেরা ধারণা পোষণ করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার উপলব্ধি শক্তিতে মনে করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে তার হস্তক্ষেপ অনিবার্য।বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসূচী প্রণয়ন করা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্দেশ্য ১৯৪৭ সালে জেনেভাতে GATT চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ধারণের প্রয়োজন থেকেই GATT জন্মলাভ করে। গ্যাট মূলত: কোন বাণিজ্যিক সংস্থা নয়, এটা ছিল একটা বাণিজ্যিক চুক্তি।
পরবর্তিতে সৃষ্টি হয় WTO যার সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৬৪।
WTO এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ হলো-
পারস্পরিক সহায়তা নীতি: এ নীতির অর্থ হলো বাণিজ্যের বাধাসমূহ হ্রাস করে বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করা অর্থাৎ এক দেশকে যখন শুল্ক ক্ষেত্রে কোন সুবিধা প্রদান করা হবে তখন সেই দেশেও এর বিনিময়ে সুবিধা প্রদান করবে। এ নীতি যদিও পারস্পরিক লেনদেনের উপর নির্ভরশীল বলে মনে হয় তবুও এটি সবদেশের জন্য সুবিধাজনক নয়। এটা উন্নত দেশকে যতটুকু পারস্পরিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে অনুন্নত দেশের ক্ষেত্রে ততটুকুই অসুবিধাজনক। যেমন: অনুন্নত দেশসমূহ কাঁচামাল উৎপাদনকারী অপরদিকে উন্নত দেশগুলো তৈরি দ্রব্য/পণ্য উৎপাদনকারী অথবা সহজ ভাষায়
উপযোগিতা দানকারী। আবার উন্নত দেশসমূহ তৈরী করে অধিক দামে তৃতীয় বিশ্বে বেশী দামে বিক্রয় করতে পারে। কিন্ত আমাদের মত বাণিজ্যে
দূর্বল দেশগুলো পণ্য উৎপাদনে বেশী মূল্য পায়না- কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নত দেশগুলো দ্বারা মূল্য নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে পারস্পরিক সহায়তা নীতির মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্ব প্রকৃতপক্ষে অগ্রসর হতে পারছে না। বৈষম্যমূলক আচরণ না করা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির মূল কথা হলেও বৈষম্যমূলক নীতি অবলম্বন করা, আন্তর্জাতিক বিনিময় যেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।বিশ্ব বাণিজ্যে যুক্তরাষ্টের
যে আয়তন তার হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে কোন রাষ্ট কিংবা আঞ্চলিক শক্তি নেই একে পাশ কাটিয়ে
যাওয়ার।আমাদের এই অঞ্চলে রয়েছে কয়েকটি আঞ্চলিক পরাশক্তি যেমন-চীন,ভারত এর রয়েছে আমাদের
উপর মুরুব্বিয়াপনার অদৃশ্য কালো হাত । কিন্ত বিশ্ব বাণিজ্যে
আমাদের ও রয়েছে দক্ষতার অভাব। ২০০৫ সালে হংকং এ কানকুন সম্মেলন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ভূমিকা তেমন দক্ষ এবং ফলপ্রসু
ছিলনা । এলডিসিভূক্ত দরিদ্র দেশগুলো তাদের তৈরী পোশাক ,চামড়া সহ অন্যান্য পন্য ধনীদেশগুলোর বাজারে প্রবেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা চায় এবং তাদের সস্তা শ্রমের অবাধ যাতায়াত চায় ধনীদেশগুলোর শ্রম বাজারে । কিন্তু ধনী দেশগুলো এসব ব্যাপারে কোন রুপ সুবিধা দিতে চায়নি। বরং হংকং সম্মেলনে প্রায় এক সপ্তাহব্যপী আলোচনায় যুক্তি পাল্টাযুক্তি এবং দরিদ্র দেশগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহনের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষেভের মুখে ১৪৯টি দেশের সম্মত ঘোষনায় সবচেয়ে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ উন্নত দেশগুলো ট্যারিফ সূচিভুক্ত ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানের ঘোষনা করলে বাংলাদেশকে তার বাইরে রাখা হয়। কারন বাকী ৩ শতাংশের মধ্যে আছে বাংলাদেশের সম্ভানাময় গার্মেন্টস শিল্প। মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্র পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প এই সুবিধা প্রদান করা হবে না। এছাড়া সার্কভূক্ত দেশ ভারত এমনকি শ্রীলংকাও বাংলাদেশের পক্ষে দাড়ায়নি। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হল বাংলাদেশের দক্ষ নেতৃত্ব রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার অভাবেই বাংলাদেশেকে বিশ্ববানিজ্য সংস্থার হংকং সম্মেলন হতে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। (চলবে)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ।
Comments
Post a Comment