রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) নতুন জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ কি না!
বিশ্ব
বাণিজ্য প্রেক্ষাপট, পর্ব ২
রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) নতুন জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ কি না!
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্যারিফ ননট্যারিফ, জিএসপি সহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে আসছে । যা আমাদের পোষাক রপ্তানীতে বিশেষ অবদান রেখে চলছে। তদপুরি আমাদের পোষাক রপ্তানীর ঊপর
রপ্তানীকারকদের সরকারি নগদ প্রনোদণা প্যাকেজ বিদ্যমান রয়েছে যা - পোষাক রপ্তানীকারকদের ব্যবসা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়াও বাংলাদেশ বর্তমানে বিভিন্ন আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক
জোটের সাথে বাণিজ্য চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি বাংলাদেশ আরসিইপি জোটে অংশগ্রহন করতে চায় তা বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলোর উপর কিরূপ প্রভাব পড়তে পারে
তাও ভেবে দেখার বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশ পোষাক রপ্তানীতে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানটি চায়না নিজ দখলে রেখেছে, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া আমাদের গাঢ়ের উপর
নিশ্বাস ফেলছে। আলোচ্য তিন দেশই চাইবে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতায় পিছনে ফেলে দিতে। আমরা চায়নার কাছ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার পন্যের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা
পেয়েছি। বাংলাদেশের রপ্তানী পণ্যও সেবার বহুমাত্রিক সংখ্যা অত্যান্ত সীমিত। তাই নতুন জোটে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের পণ্যের
বৈচিত্র্য, বিদ্যান সুযোগ-সুবিধা মার্কেট প্লেয়াদের মনোভাব বুঝতে হবে। এবং বর্তমানে প্রাপ্য সুবিধাদি এবং সম্ভাব্য সুবিধাবলীর পূঙ্খানাপূঙ্ক বিশ্লেষন করা
জরুরী।
গত ২০শে অক্টোবর
২০২০ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের
মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারীত্ব এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যৌথ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট বিশ্ব-বাণিজ্য কুটনীতিতে সাপে-নেওলে সর্ম্পক, তাই বাংলাদেশকে বুঝেশুনে
পা ফেলতে হবে । যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে আন্তর্জাতিক
রাজনীতিতে পলিটিক্যাল লিডার। তদপুরি আমেরিকার বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা
আপাততঃ স্থগিত রেখেছে, যা আদায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়াও আমেরিকা
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক সহ আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা সমূহের নিয়ন্ত্রক। পদ্মা সেতুতে ঋণ জটিলতায় বাংলাদেশ তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। চীন
ও যুক্তরাষ্ট্র শীতল বাণিজ্য
যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসন কে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। হোয়াইট হাউজে যে আসুক না কেন,
আমেরিকার বৈদেশিক নীতি অপরিবর্তিত থাকে ।
চীন তাদের একতরফা
বাজার বিস্তৃত করতে বিভিন্ন মহাপরিকল্পনা নিয়ে হাজির হচ্ছে । আমাদের অধিকাংশ
অর্থনীতি কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, পোষাক শিল্প, কুটির শিল্প নির্ভর, তাই আমাদের উন্মুক্ত
বিশ্ববাজারে প্রবেশ করা অনেক বেশী চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে। আমাদের খুটিয়ে খুটিয়ে চলা
ছোট ও মাঝারী শিল্প সমূহ বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবল দমকা হাওয়ার গতি সামলানোর মত শক্তি
সঞ্চয় করতে পারেনি এখনও। বাংলাদেশ যেহেতু আগামী ছয় বছরের মধ্যে এলডিসির তালিকা
থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে, সেহেতু চ্যালেঞ্জটা বাড়তি। কয়েকটি পাক্ষিক সমঝোতায় চুক্তিতে
যুক্ত না থাকলে এলডিসির ছাড় ও এলডিসি
উত্তরণ পরবর্তী পর্যায়ে সমন্বয়ে সুবিধা দাবি করার সুযোগ থাকবে কম । আবার এধরনের
উদ্যেগে যুক্ত হতে গেলে দরকষাকষিতে যে বাড়তি সক্ষমতা প্রয়োজন, তার যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। আঞ্চলিক সমঝোতা চুক্তি, ফ্রি ট্রেড জোন সহ অন্যান্য পাক্ষিক
বাণিজ্য সমঝোতা গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে সম্ভাব্য কৌশল ও করনীয় নির্ধারণে
অনতিবিলম্বে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপসহ মার্কেট প্লেয়ারদের সঙ্গে
অন্যান্য ইস্যুতে পাক্ষিক/দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিগুলোতে যুক্ত হওয়ার পূর্বে
আমাদের বিভিন্ন শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখার পূর্ব প্রস্তুতি থাকা দরকার।
বর্তমানে 'বিদেশি আয়' (রেমিট্যান্স) এবং 'তৈরি পোশাক শিল্প'
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। যদিও তৈরি পোশাক শিল্প (রপ্তানি) থেকে
বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে, বিদেশ থেকে এর কাঁচামাল ক্রয়
বাবদ খরচ থাকার কারণে এককভাবে প্রবাসীদের প্রেরিত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা
অর্জনের অন্যতম উৎস। বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে বেশি পরিমাণে আমদানি করার ফলে, বাংলাদেশ
ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যে ঘাটতি থাকে তা প্রধানতঃ 'রেমিট্যান্স' এর প্রবাহের
মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। বাংলাদেশ 'প্রবাসী আয়ের' (রেমিট্যান্স) মাধ্যমেই প্রধানত
তাদের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চযয়ন (বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ) বৃদ্ধি হয়ে থকে। ২০১৮
সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বেশি রেমিট্যান্স আয়ের দেশগুলোর মধ্যে
বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম।[সূত্র
প্রথম
আলো’২২.০৪.২০২০}। ভারত প্রবাসী আয়ের'
(রেমিট্যান্স) ক্ষেত্রে আমাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি। আমাদের জিডিপি প্রধান দুটি
খাতের বিপরীতে আমাদের বর্হিবিশ্বে শক্তিশালী প্রতিযোগী রয়েছে বিধায় আমদের সকল
পরিকল্পনা খুবই বাস্তবধর্মী ও টেকসই হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজন
সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ এবং পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন।
CTG journal.com
Dt.17.11.2020

Comments
Post a Comment